পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চরনজির, যার একমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা নৌপথ। দক্ষিণ-পূর্বে তেঁতুলিয়া ও উত্তর-পশ্চিমে বুড়াগৌরাঙ্গ নদ দ্বারা বেষ্টিত এই চরটি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন কিংবা জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে চরের বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। চরনজিরের দুই শতাধিক পরিবারের অধিকাংশই কৃষি ও মৎস্য পেশার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অবকাঠামো সংকটের কারণে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে। চরে নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নেই সাইক্লোন শেল্টার কিংবা পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ।
বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভাবে নানা রোগব্যাধি চরের মানুষের নিত্যসঙ্গী। অবশেষে ২০২২ সালে চরনজিরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। আন্তর্জাতিক সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ ও দেশীয় বেসরকারি সংস্থা জাগোনারীর প্রদৃপ্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, একটি বাঁশের সাঁকো, নদীপারে একটি ঘাটলা নির্মাণ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য একটি পুকুর খননের কাজ সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতর ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা, স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি সংকট সমাধানে কাজ শুরু করেছে। তবে চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরও ব্যাপক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন চরনজিরের মানুষ উন্নয়নের জন্য আশায় বুক বেঁধেছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলে চরনজিরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদী হতে পারবে।
অলকা দেবী সাহা
পটুয়াখালী
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
